Top News

পর্ব ৩: লালবানু/মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে গর্ভ/বতী হলো লালবানু।

 ### পর্ব ৩: লালবানু 



রাত গভীর হয়ে এসেছে। লালবানু বিছানায় শুয়ে থাকলেও ঘুম আসছে না। মাথার ভেতর হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। ফরিদা ভাবীর আচরণ আজ সারা দিন ধরেই অস্বাভাবিক ছিল। আর রফিক সিকদারের মৃ/ত্যু নিয়ে তার সেই অদ্ভুত ভয়, যা দেখে লালবানু নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছে। মনের ভেতর একটা অদ্ভুত সন্দেহ কাজ করছে।


“কিছু একটা হচ্ছে, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না,” লালবানু নিজেকে বারবার বলছে। 


মাজেদ খাঁ পাশেই ঘুমিয়ে আছে। তার ঘুমের মাঝে মাঝে ভাঙছে, কিন্তু কিছুই বলছে না। তবে লালবানু জানে, মাজেদও নিশ্চয়ই রফিক সিকদারের মৃ/ত্যু নিয়ে কিছু জানে। আজ দুপুরে তার মুখের অস্বাভাবিক অভিব্যক্তি মনে পড়তেই লালবানুর গায়ে কাঁটা দেয়।


“এভাবে কিছু বের হবে না,” মনে মনে ঠিক করে লালবানু। সে এবার দৃঢ় মনস্থির করে, যা-ই হোক, ফরিদার কাছ থেকে সত্যটা জানতে হবে। 


***

পরের দিন সকালে, রান্নাঘরে কাজ করতে করতে লালবানু ফরিদার দিকে চোখ রাখে। ফরিদা বেগম শান্ত স্বরে কাজ করছে, কিন্তু তার মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। সারা রাত সে কীভাবে কাটিয়েছে, কে জানে!


লালবানু কাছে এসে বলে, “ভাবী, তোমার সাথে একটু কথা বলতে পারি?”


ফরিদা চমকে ওঠে। কপালে সামান্য ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করে, “কী কথা?”


“ওই রফিক সিকদারের মৃ/ত্যুর পর থেকে তুমি খুব অস্বাভাবিক আচরণ করছো। কিছু কি লুকাচ্ছো আমাদের সবার কাছ থেকে?” লালবানুর সরাসরি প্রশ্নে ফরিদা বেগম প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে যায়, কিন্তু পরক্ষণেই নিজের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে বলে, “তোমার ধারণা ভুল। এমন কিছু নেই।”


“তাহলে কালকে রাত থেকে তোমার মুখে সেই ভয় আর ক্লান্তি কেন? শাশুড়ি আম্মাও তোমাকে নিয়ে সন্দেহ করছে, আমিও বুঝতে পারছি তুমি কিছু বলছো না।”


ফরিদা হঠাৎ চুপ হয়ে যায়। তার মুখের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে সে ধীরে ধীরে বলে, “আমি… আমি বলতে পারি না। বললে বড় বিপদ হবে।”


“বিপদ! কিসের বিপদ ভাবী?” লালবানুর কৌতূহল আরও বাড়ে।


“তুমি বোঝো না, লালবানু! এ গ্রামের কিছু কথা আছে, যা বাইরে বলা যায় না। রফিক সিকদারের সাথে…।” কথা শেষ করার আগেই হঠাৎ মালেকা বেগম রান্নাঘরে প্রবেশ করে।


“তোমরা দুইজন কী ফিসফাস করছো?” মালেকা বেগমের তীক্ষ্ণ কণ্ঠ রান্নাঘরের বাতাস ভারী করে তোলে। 


ফরিদা আর কথা বাড়ায় না, তাড়াতাড়ি কাজ করতে থাকে। লালবানু বুঝে যায়, আজ আর কিছু জানার উপায় নেই।


***

দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা। লালবানু বাড়ির উঠানে বসে আছে। হঠাৎ আলতাফ খাঁ সামনে এসে দাঁড়ায়। সে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর গম্ভীর গলায় বলে, “লালবানু, তুমি কী জানো, রফিক সিকদার শুধু একটা হত্যার শিকার না, তার পেছনে বড় একটা রহস্য আছে।”


লালবানু চমকে ওঠে। “কী বলছো? তুমি কী জানো?” 


“সবাই কিছু না কিছু জানে। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চায় না। এটা এমন কিছু, যা জানলে তুমি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারবে না।” আলতাফ খাঁর চোখে ভয় আর উত্তেজনার মিশ্রণ।


“কী বলছো, দাদা? কী এমন সত্য?”


আলতাফ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফিসফিস করে বলে, “শুধু এতটুকু বলি, রফিক সিকদারের মৃ/ত্যু একটা সাধারণ খু/ন না। এর সাথে জড়িত লোকেরা খুবই প্রভাবশালী, এবং তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকতে হবে।”


লালবানু শিহরিত হয়, কিন্তু আরও জানার আগ্রহ তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আলতাফ খাঁ আর কিছু না বলে দ্রুত সরে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া এই রহস্যময় কথা লালবানুর মনে এক গভীর শঙ্কা তৈরি করে।


### চলবে... 


**পর্ব ৩**-তে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। লালবানুর চারপাশে যেন ধীরে ধীরে সবকিছু অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এখন সে পুরোপুরি জানে, রফিক সিকদারের মৃত্যু একটা বড় ষড়যন্ত্রের অংশ, কিন্তু সেটা কী, তা বুঝতে পারছে না।

Post a Comment

Previous Post Next Post