Top News

পর্বসংখ্যা-(০২) অনামিকার কাছে ছুটে গেলেন তিনি দেখলেন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে। ধক করে বুক কেঁপে উঠলো,চোখজোড়াও ছলছল করে উঠলো।

 #আনারকলি 

#মেহেরিন_আনজারা_নিশা 

#পর্বসংখ্যা-(০২)

________________________


অনামিকার কাছে ছুটে গেলেন তিনি দেখলেন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে। ধক করে বুক কেঁপে উঠলো,চোখজোড়াও ছলছল করে উঠলো।


"ইশ! কী অবস্থা করেছে মেয়েটার! এইসব সহ্য করবে না আল্লাহ!"


তাচ্ছিল্য করলো আফ্রিদ। হঠাৎ শুনতে পেলেন বেবিটা কাঁদছে! কী করবেন কিছু বুঝতে পারলেন না। অপরিচিত জায়গায় এসেছে তাই বেবিটা কারো কাছে থাকতে চায় না। কোনরকম ধরে অনামিকাকে বেডের উপর তুললেন। দৌঁড়ে বেরিয়ে যান বেবিটাকে আনতে। নিথর হয়ে পড়ে থাকা অনামিকার দিকে একপলক তাকিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল আফ্রিদ। সহ্যই হচ্ছে না মেয়েটাকে। তবে মেয়েটা দেখতে সুন্দর আর মেয়েটার নাম যত সুন্দর কিন্তু মেয়েটার মন মানসিকতা খুবই বাজে কুৎসিত! কীভাবে পারলো তার মাতাল হওয়ার সুযোগ নিতে! সে না হয় মাতাল ছিলো কিন্তু মেয়েটা তো স্বজ্ঞানে ছিলো। বকতে লাগলো আফ্রিদ।


ভীষণ খিদে পেয়েছে বেবিটার। বেস্টফিডিং করাতে দিলেন। নিস্তেজ হয়ে রইলো অনামিকা। গোপনে চোখজোড়া মুছে নিলেন মাহরীন চৌধুরী। কপালের আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় ওয়ানটাইম ব্যান্ডেজ করে দিলেন। হঠাৎ বার দুয়েক বমি করে সেন্স হারিয়ে ফেললো অনামিকা। ঘাবড়ে গেলেন তিনি। স্বামীকে খবর দিয়ে সকাল সকাল হসপিটালে নিয়ে গেলেন অনামিকাকে,তার অবস্থা ভালো নয়।


০৪.

হসপিটালে তিনদিন চিকিৎসাধীন রয়েছে অনামিকা,অথচ একটিবারও আফ্রিদ এসে দেখে গেল না। খারাপ লাগলেও কিছু বললো না অনামিকা,তার ভাগ্যটাই যে এমন। অপরিচিত পরিবেশে আসায় বেবিটাও কারো কোলে থাকতে চাইছে না। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে! শরীরের অসুস্থতায় অনামিকা নিতে পারে না। আরো দু-দিন হসপিটালে রাখার পর বাসায় নিয়ে আসেন অনামিকাকে। আফ্রিদির রুমে যেতে বললে নাকোচ করে দেয় অনামিকা। কিন্তু মাহরীন চৌধুরীর একটাই কথা,এক রুমেই থাকতে হবে দু'জনকে। যার সমস্যা হবে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে। এটা যে ছেলের উদ্দেশ্যে বলেছেন তা অনামিকা জানে।


০৫.

রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরলো আফ্রিদ। দেখলো অনামিকার বেবিটা বেডের উপর বসে খেলছে। তবে আশেপাশে অনামিকাকে দেখা গেল না। বেবিটা হঠাৎ বেডের উপর প্রসাব করে দিলো। চিৎকার করে মাকে ডাকতেই অনামিকা সহ মাহরীন চৌধুরী ঘাবড়ে গিয়ে একপ্রকার ছুটে এলেন।


"কী হয়েছে?"


"বেড নষ্ট করে ফেলেছে বেবিটা।"


আতঙ্কিত হলো অনামিকা,ভয়ে শরীরে কাঁপন ধরে গেল।


"চিন্তার কিছু হয়নি। ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে যাবে আর আমি পেপার দিয়ে চেপে দিচ্ছি!"


"তুমি ভাবলে কী করে আমি এখানে ঘুমাবো?"


"না ঘুমালে রাস্তায় গিয়ে ঘুমাও।"


বেবিটাকে কোলে তুলে বেরিয়ে যান তিনি। না জানি ছোট্ট বাচ্চাটাকে আবার কি করে বসে! ভয়ে ভয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নেয় অনামিকা। আচমকা পেছন থেকে ঘাড় চেপে ধরলো আফ্রিদ। আর্তনাদ করে উঠলো অনামিকা।


"এটা গ্রাম পেয়েছিস?"


কাঁপতে লাগলো অনামিকা।


"ছোট্ট মানুষ করে ফেলেছে,আজকের জন্য মাফ করে দিন।"


"বাচ্চা পালতে না পারলে নিলি কেন?"


টুপ করে জল গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে। অসহায় নেত্রে তাকালো অনামিকা। সে-তো ইচ্ছে করে নেয়নি!ওই মানুষটাই জোর করে...


"এইসব মায়া কান্না আমাকে দেখাবি না।"


ধাক্কা দিতেই ফ্লোরে আঁছড়ে পড়ে কোমড়ে ব্যথা পেলো অনামিকা। কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেল রুম থেকে। রাগে গজগজ করলো আফ্রিদ। মানে হয় এইসবের! কোথা থেকে একটা মেয়েকে ধরে এনে হুট করে তার সাথে বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে,মেয়েটার সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। মেয়েটা বিবাহিত তার নাকি আবার একটা বাচ্চাও আছে। তার মতো সুদর্শন একটা ছেলে কিনা একটা এক বাচ্চার মাকে বিয়ে করেছে তার বন্ধুমহলেরা জানলে কি বলবে? ছিঃ! ছিঃ! মানসম্মান সব শেষ। এদিকে দেখ একটা জঙ্গল মেয়ে বাচ্চাকে ডায়াপার না পরিয়ে বেডে বসিয়ে রেখেছে,আর বাচ্চাটা পুরো বেড নষ্ট করে ফেলেছে! এখন কীভাবে ঘুমাবে সে? লাথি মা'র'লো একটা ফুলদানিতে মুহূর্তেই ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।


শুনতে পেয়ে কেঁপে উঠলো অনামিকা। মানুষটা তার ঘাড় এমনভাবে চেপে ধরেছে যে নখ ঢুকে গেছে! চামড়া ছিলে ভীষণ ব্যথা হচ্ছে! খুব কান্না পেলো অনামিকার। সবাই বলে সে খুব সুন্দরী! তার এত সুন্দর শরীরের কোথাও একটা দাগও ছিলো না। কিন্তু মানুষটার সাথে বিয়ে হতে না হতেই তার সারা শরীর নষ্ট করে ফেলেছে! নিজের শরীরের কালশিটে দাগগুলোর দিকে তাকিয়ে বুক ফেটে কান্না এলো অনামিকার। এক সপ্তাহ না হতেই কি হাল করেছে মানুষটা তার শরীরের। বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে মাখনের মতো সুন্দর শরীরটাকে কালশিটে বানিয়ে দিয়েছে!


০৬.

প্রায় অনেকক্ষণ হলো বাবুটাকে নিয়ে হাঁটতে লাগলো অনামিকা। বাবুটা ঘুমিয়েছে,অনেক রাতও হয়েছে। একপলক তাকায় বাবুটার মায়াভরা মুখের দিকে। আজ তার বাবা থাকলে এমন জীবন হতো না দু'জনের। মানুষটা খুব খারাপ খুব! ভীষণ খারাপ! নয়তো তাদের ছেড়ে কেন চলে গেল? টুপ টুপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো দু-গাল বেয়ে।


"ঘুমাতে যাও অনামিকা।"


"কোথাও খালি রুম থাকলে আমাদের একটু ঘুমাতে দিন মা।"


"সম্ভব নয়,এক রুমেই ঘুমাবে।"


ফের চোখের জল গড়িয়ে পড়লো।


"মা উনি.."


"যাইহোক স্বামী তো!"


কিছু বলতে পারলো না অনামিকা,বুক ঠেলে কান্না এলো। অসহায়বোধ করলো।


"যাও।"


"বলছি.."


"আশা ছাড়তে নেই,ঝরে পড়ে ফল থেকেও নতুন গাছের জন্ম হয়। তাই একটুতেই ভেঙে পড়ো না। ধৈর্য্য ধরো,অপেক্ষা করো,আল্লাহ উত্তম কিছু দান করবেন আমার বিশ্বাস।"


টুপ করে আবারও চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো। রুমের সামনে এসে দাঁড়িয়ে রইলো অনামিকা। কিন্তু ভয়ে ঢুকতে পারছে না। আবার যদি মা'রে তাহলে?সে ম'রে গেলে বাবুটার কী হবে? বাবুটার জন্যই তো সে ম'র'তে পারে না,নয়তো আরো আগেই পরপারে চলে যেতো। আর সে ম'রে গেলে তার বাচ্চাটা আদেও বাঁচবে তো! কার কাছে থাকবে?কে তাকে পেলেপুষে বড় করবে? মা ছাড়া সন্তানরা বাঁচে না। বাঁচলেও সেই বাঁচাটা বাঁচার মত হয় না। মা মানেই ছায়া,আর ছায়া ছাড়া দেহ হয় না। ছায়া সরে গেলে দেহের অস্তিত্বও থাকে না। কেঁপে উঠলো অনামিকা। বাচ্চাটাকে ছেড়ে সে ম'র'তে পারবে না! পেছন পেছন এলেন মাহরীন চৌধুরী।


"কী হলো দাঁড়িয়ে রইলে যে?"


মাথা নুয়ে রাখলো অনামিকা।


"ভেতরে যাও।"


ভয়ে ভয়ে পা ফেলে,বেডের উপর একটা মোটা কাঁথা দিয়ে দিলেন।


"কাল ওয়াল ক্লথ এনে দিবো এখন ঘুমাও। কারো ইচ্ছে হলে ঘুমাবে না হয় রাস্তায় থাকবে। খবরদার তুমি তোমার রুম আর অধিকার ছাড়বে না। বুঝেছো?"


মাথা নাড়ায় অনামিকা।


"কেউ যদি তোমাকে নিচে ঘুমাতে বলে তুমিও তাকে বলে দিও তোমার অভ্যাস নেই। সে যেন নিজেই ঘুমায়।"


ব্যালকনি থেকে শুনতে পেয়ে দাঁতে দাঁত চাপলো আফ্রিদ।


"শুয়ে পড়ো।"


লাইট অফ করে ডোর ভিড়িয়ে চলে গেলেন তিনি। ভয়ে কাঁপতে লাগলো অনামিকা। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রইলো আফ্রিদ। মাথা ঠিক নেই তার। অনামিকা আর তার বাবুটাকে সহ্য হচ্ছে না। ভীষণ ঘুম পেয়েছে,রুমে ঢুকে ডিভানে ঘুমাতে নিলো দেখলো জায়গাটা খালি। একটু আগেও তো দেখলো ডিভানটা এখানে ছিলো গেল কই? কিছুক্ষণ পূর্বে দু'জন সার্ভেন্ট দিয়ে ডিভানটা সরিয়ে নিয়েছেন মাহরীন চৌধুরী এবং বাসার খালি রুমগুলোতেও তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। রাগে-জিদে মে'রে ফেলতে ইচ্ছে করছে অনামিকাকে সাথে ওর বাচ্চাটাকেও। কি জানি কার পাপ তার গলায় নিয়ে ঝুলেছে!


ব্যালকনিতে গিয়ে আবার দাঁড়ায়,কিন্তু মশার কামড়ে দাঁড়াতে পারলো না। একপ্রকার বাধ্য হয়ে বেডের এক কোনায় শুয়ে পড়লো। একপলক তাকালো অনামিকার দিকে,মারাত্মক সুন্দরী,ঠিক আনারকলি নামটার মতোই সুন্দর! কি জানি কে রেখেছে নামটা,বাট একদম পারফেক্ট! কিন্তু মে'রে ফেলতে ইচ্ছে করছে! অনেক কষ্টে একপাশে শুয়ে চোখ বুজলো।

__________


চলবে~

Post a Comment

Previous Post Next Post