আফ্রিদির শার্ট খুলে,জুতা খুলে দিলো অনামিকা। ঠিক করে শুইয়ে দিলো। নড়েচড়ে গুঙিয়ে ঘুমিয়ে গেল আফ্রিদ।
#পর্বসংখ্যা-(০৬)
________________________
আফ্রিদির শার্ট খুলে,জুতা খুলে দিলো অনামিকা। ঠিক করে শুইয়ে দিলো। নড়েচড়ে গুঙিয়ে ঘুমিয়ে গেল আফ্রিদ। মানুষটার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো অনামিকা। ভীষণ সুন্দর এক পুরুষ! কিন্তু আচার-আচরণ খুব জঘন্য! কে বলবে ঘুমিয়ে থাকা মানুষটা যখন জেগে থাকে তখন তাকে পাশবিক নির্যাতন করে! টুপটুপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো দুগাল বেয়ে। প্রার্থনা করলো যেন মানুষটা খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়। লাইট অফ করে সেও বাবুর দিকে চেপে মাঝখানে শুয়ে পড়ে। নড়েচড়ে আবারও ঘুমের ঘোরে গুঙিয়ে উঠে আফ্রিদ। অনামিকার দিকে ফিরতেই নেশার ঘোরে হঠাৎ বেলিফুলের সুবাস পেলো। বালিশের মধ্যে নাক-মুখ ঢলে আরেকটু এগিয়ে গেল আফ্রিদ। নাক দিয়ে সুবাসের উৎস খুঁজতে লাগলো। বুঝতে পারলো অনামিকার শরীর থেকে বেলীফুলের সুবাস আসছে। চট করে তাকালো। দেখলো অনামিকার লম্বা লম্বা চুলগুলো ছাড়া। পিঠের নিচে পড়ে আছে। কিন্তু আজ খোঁপায় মালা নেই। আচমকা কাছে টেনে আনতেই ঘাবড়ে গেল অনামিকা। কিছু বলতে না দিয়ে সবগুলো চুলের মধ্যে নাক-মুখ ডুবালো। শ্বাস আঁটকে রইলো অনামিকা।
"তোমার বেলীফুল পছন্দ আনারকলি?"
শান্ত কন্ঠস্বর,তবুও ভয়ে ভয়ে প্রতিত্তোর করলে,"হুম।"
"আজ থেকে প্রতিদিন বেলীর মালা পড়বে।"
"কেন?"
"তোমাকে দেখতে ভালো লাগে।"
"কিন্তু আপনি তো আমাকে পছন্দ করেন না।"
কথাটা বলতেই গলার স্বর কেঁপে উঠলো। কিছু বললো না আফ্রিদ। অনামিকার অশ্রুসিক্ত নয়নজোড়ায় দিকে তাকিয়ে রইলো। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো অনামিকা কিন্তু পারলো না। আচমকা গলায় মুখ ডোবায়। অপ্রত্যাশিতভাবে আবারও জড়িয়ে যায় দু'জন স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বন্ধনে।
____
সকালে শাওয়ার নিয়ে শাড়ি পরে বাবুকে নিয়ে দ্রুত রুম ছাড়লো অনামিকা। আজ আবার কোন শনি ঘুরছে তা সে আন্দাজ করতে পারছে না! হাত এখনও ভালো হয়নি,শরীরে এখনও প্রচণ্ড জ্বর। সোফায় বসে বাবুকে সেরেলাক খাওয়াচ্ছে অনামিকা। নিশান এসে আস্তে করে আরেক পাশে বসলো অনামিকা অবশ্য খেয়াল করলো না।
"তোমার হাতে কী হয়েছে ভাবি?"
ভড়কে গিয়ে হাতটা লুকিয়ে ফেললো অনামিকা।
"কিছু না।"
"হাত লুকালে যে?"
"ও কিছু না।"
"অনামিকা তোমার জ্বর ভালো হয়েছে?"
"হয়েছে।"
কপালে হাত রাখতেই দেখলেন গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে।
"সবার সাথে মিথ্যা বললেও আমার সাথে বলবে না।"
মাথা নোয়ালো অনামিকা।
"যাও মেডিসিন খাও,বাবুকে আমার কাছে দাও।"
"ভাবির হাতে কী হয়েছে ফুপি?"
"কী আর হবে গরম পানি পড়েছে কিভাবে যেন।"
"ডাক্তার দেখাচ্ছ না যে?"
"কে নিবে আমি তো খুব ব্যস্ত।"
"সমস্যা নেই আমি নিয়ে যাবো।"
ঘাবড়ে গেল অনামিকা।
"আরেহ না! সমস্যা নেই,ঠিক হয়ে যাবে।"
রেডি হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্যই এদিকে আসছিলো আফ্রিদ।
"নিশান পারলে তোর ভাবিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা।"
আফ্রিদকে দেখতেই ঘাবড়ে যায় অনামিকা।
"লাগবে না।"
"অনামিকা যাও রেডি হও।"
"তাহলে আমিও রেডি হয়ে আসি ফুপি?"
"যাও।"
ভয়ে ভয়ে অনামিকা চলে যায় রুমে। দাঁতে দাঁত চাপলো আফ্রিদ। অনামিকা জাহান্নামে গেলে তার কি! ব্রেকফাস্ট না করে বেরিয়ে গেল। কিন্তু স্বস্তি পেলো না। কেন এমন হচ্ছে আফ্রিদ জানে না। তবে বুঝতে পারলো নিশানের সাথে অনামিকাকে সহ্য হয় না! কেন হয় না আফ্রিদের জানা নেই। চুলোয় যাক অনামিকা। আজও তার মাতাল হওয়ার সুযোগ নিয়েছে মেয়েটা! দেখলে মনে হয় যে ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানে না,কিন্তু ঠিকই তার নেশার সুযোগ নেয়। মে'রে ফেলতে ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে!
_____
আফরা আর মিরা কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিচে এলো। আফরা গাড়িতে বসতেই ড্রাইভার ডোর অফ করে সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিতেই চেঁচিয়ে উঠলো মিরা।
"আমি না উঠতেই গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছেন কেন?"
"বড় ম্যাডামের আদেশ আফরা মামণি ছাড়া এই গাড়িতে আর কেউ চড়তে পারবে না।"
"হোয়াট?"
কিছু না বলে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে চলে গেল। বকতে লাগলো মিরা। তারমানে এখন থেকে সে বাসার গাড়ি ইউজ করতে পারবে না!
"এই বাড়ির বউ হয়েই ছাড়বো আমি! এই বাড়ির সব সম্পত্তির মালিক একদিন আমিই হবো।"
"স্বপ্ন দেখতে থাকো।"
উপরের দিকে তাকালো মিরা। দেখলো মাহরীন খাতুনের মুখে বাঁকা হাসি! ভীষণ রাগ হলো মিরার। মে'রে ফেলতে ইচ্ছে করছে মহিলাকে।
(রিয়া নামটি বদলে মিরা দেওয়া হলো)
_____
অনামিকাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল নিশান। দূর থেকে দৃশ্যটি দেখলো আফ্রিদ। ব্যপারটা ভালো লাগলো না। জাহান্নামে যাক ওই আনারকলি তাতে তার কি! অফিসে গিয়েও মনযোগ বসাতে পারলো না। কেন জানি নিশানের সাথে মিষ্টি হেসে কথা বলা অনামিকার ওই দৃশ্যটি বার-বার মনে পড়ছে!
বিকাল পর্যন্ত অফিসে কাজ করে একটা বারে চলে গেল। ইচ্ছেমত নেশা করে অনেক রাতে বাসায় ফিরলো আফ্রিদ। মাহরীন খাতুন ড্রয়িংরুমে বসে অপেক্ষা করছেন তার জন্য। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আর কতদিন এমন দিন দেখতে হবে? কলিংবেল বাজতেই ডোর খুললেন।
"এত রাত অব্ধি কোথায় ছিলে?"
"মদ খেয়েছি।"
"আজও নেশা করেছো?"
"না করার কথা ছিলো কবে?"
"মানুষ হবে না তুমি?"
"না।"
"ফাজলামো করছো?"
"একদম না।"
"আর একদিন এইরকম করলে সত্যি সত্যি তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিবো।"
"আমার জীবনটা নষ্ট করলে কেন?"
"কী করেছি?"
"তুমি যদি আমার মা হতে তাহলে এইরকম মেয়েকে বিয়ে করাতে পারতে আমায়?"
"যা হয়েছে এনাফ,মুখ বন্ধ।"
"কতদিন আমার মুখ বন্ধ রাখবে?"
"মরণ পর্যন্ত।"
তাচ্ছিল্য হাসলো আফ্রিদ।
"তুমি সত্যিই আমার মা হতে পারোনি।"
"আসলেই,সে তোমাকে ফেলে চলে গিয়েছে আর আমি বুকে টেনে নিয়েছি পার্থক্য এখানেই।"
"আমার মায়ের নামে একদম বাজে কথা বলবে না।"
"বিশ্বাস না হলে তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করতে পারো।"
"আমার কোন বাবা নেই,থাকলে তোমাকে বিয়ে করতো না।"
"লাস্ট ওয়ার্নিং! মায়ের মতো চরিত্র নষ্ট করো না। যাও রুমে ঢুকো।"
টলতে টলতে রুমের দিকে পা বাড়ায় আফ্রিদ। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মাহরীন খাতুন। ছেলেটার মাথায় আজেবাজে কথা ঢুকিয়েছে মানুষ। ছেলে এখন উচ্ছন্নে চলে গিয়েছে। আর মানুষ ও সফল হয়েছে। রুমে ঢুকে ডোর বন্ধ করার পর শিউর হয়ে নিজের রুমে চলে যান।
_____
বাবু ঘুমিয়ে পড়লেও অনামিকার ঘুম আসেনি এখনও। আফ্রিদকে রুমে ঢুকতে দেখে ভড়কে উঠে। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে অনামিকার সামনে দাঁড়ায় আফ্রিদ। চিবুক চেপে ধরলো আচমকা। ভয়ে শিউরে উঠে অনামিকা।
"তোর অনেক সাহস তাই না?"
"কী করলাম?"
"মুখে মুখে তর্ক করছিস?"
চুপ রইলো অনামিকা।
"ওই ছেলেটার সাথে তোর এত ঘেঁষাঘেঁষি কীসের বল?"
চিবুকে চাপ দেয়,আর্তনাদ করে উঠে অনামিকা। গলা চেপে ধরে সামনে দাঁড় করায়। মুখটা উঁচু করে তুলে ধরে। অনামিকার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। আচমকা ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ছুঁড়ে মা'র'লো। পড়ে গিয়ে ব্যথা পায় কোমড়ে। জুতা সহ বেডের উপর শুয়ে পড়লো আফ্রিদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এলো অনামিকা। দেখলো আফ্রিদ ঘুমিয়ে পড়েছে! আস্তে আস্তে জুতা,শার্ট সব খুলে লাইট অফ করে আস্তে করে সেও শুইয়ে পড়লো। আচমকা কাছে টেনে আনলো আফ্রিদ।
"আপনি ঘুমাননি?"
"কী মনে হয়?"
কাঁপতে লাগলো অনামিকা,খামছে ধরেছে কাঁধ।
"আহ! ছাড়ুন!"
একটানে শাড়িটা খুলে নেয়।
"প্রতিদিন কী শুরু করেছেন আপনি?নেশা করে এসে নিজের পুরুষত্ব ফলাচ্ছেন আর সকালে উঠে আমাকে দোষারোপ করছেন!"
"তোদের মতো মেয়েকে শুধু ভোগ করা যায়,ভালোবাসা নয়। এখন নো সাউন্ড।"
দাঁতে দাঁত চেপে রইলো অনামিকা। নিজের কার্য হাসিলে মত্ত্ব হলো আফ্রিদ। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাতে সায় দিতে হলো অনামিকাকে।
___________
চলবে~
Post a Comment