**রাজবধূ** – পর্ব ৮
শিখার কৌতূহল যেন বাড়তেই থাকলো। তার মায়ের মুখে হাসি দেখে মনে হলো কিছু একটা লুকিয়ে আছে। সে আরও জানতে চাইল, "আম্মা, রাজের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা কি আসলে? উনি কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে?"
নূরী মুখ টিপে হেসে বলল, "তুই যে প্রেমের গল্প পড়িস, তা তো জানিস। বিয়ের পর পুরুষেরা নারীদের প্রতি স্নেহশীল হয়। তবে তোর মনে যে প্রশ্নগুলো ঘুরছে, সেগুলো একবার চিন্তা করে দেখ। রাজের মনও তো জানিস না।"
শিখা কিছুটা হতাশ হলো। "কিন্তু রাজ তো বলেছিল, সে আমাকে খুব ভালোবাসে। অথচ কেন সে এখনো আমার প্রতি সেভাবে আসছে না?"
নূরী বলল, "সেটা জানার জন্য তো সময় দিতে হবে। তুই পড়াশোনা করে শক্তিশালী হয়ে উঠ। রাজের ভালোবাসার গভীরতা তখনই বোঝা যাবে।"
দুপুরে শিখা রাজের সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলো। যদিও সে জানত রাজ তার কাছে আসবে না, তবুও তার জন্য প্রস্তুত হতে হলো। নতুন জামাকাপড় পরিধান করে, পায়ে স্যান্ডেল পরে, আত্মবিশ্বাসী হয়ে বিছানায় বসল।
রাজ এসে শিখাকে দেখে মুগ্ধ হলো। সে খুবই সুন্দর লাগছিল। রাজ বলল, "তুমি আজ খুব সুন্দর লাগছো, শিখা।"
"আপনার কাছে এসেছি, একটু গল্প করতে।" শিখা ভীত হলেও বললো।
রাজ খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল, "তোমার মা বলেছে যে তুমি পড়াশোনায় ভালো। তোমার সফলতা আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে দেবে।"
শিখা বুঝতে পারল রাজের কথা শুধুই পড়াশোনা নিয়ে। "কিন্তু, রাজ, আপনি কি জানেন, আমার মনের অবস্থা কেমন? আপনি কি কখনো আমার খোঁজ নেবেন না?"
রাজ কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল, "আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। যখন তুমি ভালোভাবে পড়াশোনা করবে, তখন সবকিছুই পরিবর্তিত হবে।"
শিখার মুখে আর কিছু বলার সাহস হলো না। রাজের কথায় তার মনে এক অদ্ভুত আশাবাদ গড়ে উঠলো।
পরের দিন শিখা স্কুলে ফিরতে লাগলো। সে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে চাইল, কিন্তু রাজের কথাগুলো তার মনের কোণে ঘুরছিল। প্রতিদিন স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে, সে রাজকে ভুলে থাকার চেষ্টা করছিল।
একদিন স্কুলে, তার বন্ধু সারা জিজ্ঞেস করল, "শিখা, তোমার বিয়ে হয়ে গেছে, কেমন লাগছে?"
শিখা একটু হাসি দিয়ে বলল, "কিছু একটা ভাল লাগছে, আবার কিছুটা অদ্ভুতও।"
সারা হাসলো, "কেন অদ্ভুত? তুমি তো রাজকে ভালোবাসা নিয়ে কথা বলেছো।"
"হ্যাঁ, তবে এখনো বুঝতে পারছি না রাজ আমাকে কেমন দেখতে চায়।" শিখা সত্যি কথাটা বলল।
"তুমি নিজেকে শক্তিশালী মনে করো, শিখা। যখন তুমি নিজের মেধা দেখাবে, তখন রাজও তোমার প্রতি আরো যত্নশীল হবে।"
শিখা সারা কথাগুলো শুনে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো, সে পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হবে।
দিন কেটে গেল, শিখা আর রাজের মধ্যে মেলামেশা না হলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অটুট ছিল। রাজের মায়ের সঙ্গে দেখা হলে শিখা তার স্কুলের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করল। সুফিয়া বিবি তার সফলতা নিয়ে খুব খুশি হয়ে বললেন, "আমরা সবাই তো তোর দিকে তাকিয়ে আছি।"
একদিন রাজ ফিরে আসার সময় শিখার জন্য কিছু বই নিয়ে এল। "এসো, আমি জানি তুমি পড়াশোনা করো।"
শিখা বইগুলো হাতে নিয়ে বলল, "ধন্যবাদ, রাজ। এগুলো আমার কাজে লাগবে।"
রাজের চোখে তখন এক ধরনের উৎসাহ দেখা গেল। "তুমি যদি পড়াশোনায় ভালো করো, তাহলে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।"
শিখার চোখে আশার আলো জ্বলে উঠলো। সে ভাবতে লাগলো, রাজের মনের গোপনীয়তা জানার সময় হয়তো আসছে।
শিখা নিজের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আনলো। সে রাজের সঙ্গে সম্পর্কে গভীরতা আনতে চাইছিল। পড়াশোনা শেষ করে সে রাজের সঙ্গে তার ইচ্ছা প্রকাশ করবে, এমনটাই সে মনে মনে ভাবলো।
আরেকদিন, রাজ শিখার বাড়িতে এসে বলল, "শিখা, আজ তোমার পরীক্ষা কেমন হলো?"
"ভালোই হয়েছে, রাজ। আমি তোমার জন্য বিশেষ কিছু চিন্তা করেছি।"
রাজের মুখে হাসি ফুটলো। "কী ব্যাপার?"
"আমি তোমাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।"
রাজ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো, যেন আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল।
"আপনি আমার জন্য সত্যি কি অনুভব করেন?" শিখা প্রশ্নটা রেখে দিলো।
রাজ একটু হেসে বলল, "আমি জানি, তুমি ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো কিছু করবে। তোমার প্রতি আমার আন্তরিকতা আছে।"
শিখার মন আনন্দে ভরে গেলো। সে বুঝতে পারলো রাজ তার জন্য খুবই গুরুত্ববহ।
বিকেল বেলা, শিখা রাজের কাছে বসে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করল। রাজও তার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে লাগলো।
তাদের মধ্যে চলতে থাকা কথোপকথন থেকে শিখা বুঝতে পারলো, রাজ আসলে তার সঙ্গী হতে চায় এবং একসঙ্গে ভবিষ্যত গড়তে আগ্রহী।
এভাবেই তাদের সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হতে লাগলো।
**চলবে...**
Post a Comment